টাঙ্গাইলের বাসাইলে মরাগাঙ্গী নদীর ওপর নির্মিত ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ের একটি সেতুর ফুটপাত ঢালাইয়ে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্নীতির অভিযোগে সাব-ঠিকাদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং এলজিইডির এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া সেতুর কাছ থেকে জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে (৪৪) গ্রেফতার করে পুলিশ।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়দের উপস্থিতিতে রাতে গোপনে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চরম তোলপাড় শুরু হয়। ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেতুটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এরপরই সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও চরম গাফিলতির দায়ে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে দায়িত্ব অবহেলার ব্যাখ্যা চেয়ে টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন ও বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী বাদী হয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনুছ আল মামুন ও মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি প্রধান ঠিকাদার এস এম জাহাঙ্গীর আলম ও সাব-ঠিকাদার শাহ আলমের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
বাসাইল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাটি তদন্তে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির জানান, মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
(তথ্য ও মূল খবর সরবরাহ করেছেন: রবিউল ইসলাম রবি মল্লিক, দিঘলিয়া, খুলনা)