খুলনার প্রত্যন্ত উপকূলীয় উপজেলা কয়রার হাজারো মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান আশ্রয় কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে সরকারি এই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে রোগী ও স্বজনদের একাংশের বিরুদ্ধে ভোগান্তি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চিকিৎসকের কাছে রোগের বিস্তারিত বলার সুযোগ না পাওয়া, তাড়াহুড়ো করে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া এবং হাসপাতালের কিছু নার্স ও কর্মচারীর আচরণ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে তাদের মধ্যে।
রোগীদের অভিযোগ, অনেক সময় তাদের শারীরিক সমস্যার কথা বিস্তারিতভাবে শোনার আগেই চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। পাশাপাশি রোগের কারণ, প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে পর্যাপ্ত পরামর্শ না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগীর স্বজন বলেন, “আমরা গরিব মানুষ বলেই সরকারি হাসপাতালে আসি। কিন্তু এখানে এসে যদি ভালোভাবে কথা বলার সুযোগও না পাই, তাহলে আমাদের যাবার জায়গা কোথায়?”
রোগীদের ভাষ্য, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার পাশাপাশি মানবিক আচরণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর আন্তরিক ব্যবহার রোগী ও স্বজনদের আস্থা বাড়াতে পারে। বিপরীতে রূঢ় আচরণ তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি করতে পারে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা গেলে প্রতিবেদনে তা যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সরকারি হাসপাতাল জনগণের সেবার জন্য। তাই রোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি সম্মানজনক ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করাও জরুরি।