বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়ন, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জা।
তিনি বলেছেন, তরুণীদের ক্ষমতায়নে শুধু প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করলেই হবে না, এ প্রক্রিয়ায় তাদের পরিবারকেও সম্পৃক্ত করতে হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর শেরাটন ঢাকায় কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (KOICA) ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ (Her Skills, Her Future) প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবারকে সম্পৃক্ত না করলে টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর নারীদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে তাদের পারিবারিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পাশাপাশি নারীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা গড়ে তোলা জরুরি।
পেশাগত ও জীবনদক্ষতার পাশাপাশি যোগাযোগদক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে তরুণীরা নিজেদের কাজ, পণ্য ও সেবা কার্যকরভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের বাজারের চাহিদাভিত্তিক পেশাগত দক্ষতা অর্জন, কর্মক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পারিবারিক নিরাপত্তা, সামাজিক চাপ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, KOICA ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা ১২ হাজার ৫০ জন কিশোরী ও তরুণীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বরিশাল, ভোলা, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম জেলার সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মেয়েরা এ কার্যক্রমের আওতায় আসবেন।
প্রকল্পের আওতায় তিন ধরনের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ তরুণীদের জন্য অনানুষ্ঠানিক খাতে শিক্ষানবিশভিত্তিক প্রশিক্ষণ.
ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহীদের জন্য বিজনেস ইনকিউবেশন মডেলের মাধ্যমে উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করে কেন্দ্রভিত্তিক পেশাগত প্রশিক্ষণ। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা এবং তাদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।
এ ধরনের উদ্যোগ তরুণীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সমাজে তাদের মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা জোরদার করতে ভূমিকা রাখবে।