ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কাজলিয়া গ্রামে তিন ইউনিয়নের সংযোগস্থলে নির্মিত একটি ছোট সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা
প্রায় ৭ থেকে ৮ বছর আগে সরকারি অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করা হলেও এখনো তৈরি হয়নি প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক। ফলে অবকাঠামোটি নির্মিত হলেও এর সুফল পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।
রোববার (১১ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুতে ওঠানামার জন্য উপযুক্ত সংযোগপথ না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। কোথাও কোথাও সেতুতে ওঠানামার জন্য সিঁড়ির মতো ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর দুই পাশে মাটি ভরাট করে চলাচলের উপযোগী রাস্তা তৈরি করা হয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগ অবকাঠামোটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে।
তিন ইউনিয়নের যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ সেতু
স্থানীয়দের দাবি, শিবপুর, বিদ্যাকুট ও নাটঘর ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় এলাকাবাসী এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি যথাযথভাবে ব্যবহার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
সেতু নির্মাণের পরও কেন সংযোগ সড়ক তৈরি করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, শুধু সেতু নির্মাণ করলেই জনদুর্ভোগের অবসান হয় না। সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাট এবং চলাচলের উপযোগী সংযোগ সড়ক নির্মাণও সমান জরুরি।
দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকায় একদিকে যেমন মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।
দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি
কাজলিয়া গ্রামের সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাট করে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য নবীনগর উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।
তাঁদের দাবি, সেতুটি যেন কেবল দাঁড়িয়ে থাকা একটি অবকাঠামো হয়ে না থাকে। বরং দ্রুত প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে এটি সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের উপযোগী করা হোক।