মাগুরা শহরের কলেজপাড়ায় একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে ২৮ হাজার পিস ইয়াবা, চার বোতল ফেনসিডিল ও প্রায় ২০ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে র্যাব-৬। এ ঘটনায় রাশেদ শেখ (৪১) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া অন্যান্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে টাকা গণনার মেশিন, চারটি ল্যাপটপ, দুটি ওয়াকিটকি, দুটি মুঠোফোন এবং ‘PRESS’ ও ‘ক্রাইম তালাশ’ লেখা মাইক্রোফোন।
গত ৮ অক্টোবর রাত ১১টা ৪০ মিনিটে মাগুরা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়ায় স্বপ্ন বিলাস ভবনের চতুর্থ তলার ডি-৩ নম্বর ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় র্যাব-৬-এর ঝিনাইদহ ক্যাম্প।
এ সময় একটি গোলাপি রঙের লাগেজ থেকে ২৮ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮৪ লাখ টাকা।
র্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দীপ্ত কুমার বিশ্বাস ওরফে সুমন (৩৫) নামে আরেক ব্যক্তিকে মাদক কারবারের মূল হোতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযানের সময় তিনি পালিয়ে যান বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
মাগুরা সদর থানার সামনে অবস্থিত একটি বেনারসি শাড়ির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে আলোচনায় আসা তন্ময় ও তাঁর ভাই তাপসকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
তবে উদ্ধার হওয়া মাদক, গ্রেপ্তার রাশেদ শেখ এবং র্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা দীপ্ত কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে তন্ময় ও তাপসের সম্পর্ক কী, কিংবা তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মাদক কারবারের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
মাদক উদ্ধারের ঘটনার পর মাগুরা শহরের কয়েকটি ভবন, ফ্ল্যাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকানা এবং অর্থের উৎস নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা হচ্ছে।
আলোচনায় এসেছে হরিশ দত্ত সড়কের সোনাপট্টি এলাকার ঢাকেশ্বরী জুয়েলার্স, কলেজপাড়ার স্বপ্ন বিলাস ভবন, হাসপাতালপাড়ার রব্বানী গ্রিন টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাট, নতুন বাজার এলাকার একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবন এবং কাউন্সিলপাড়ার একটি ফ্ল্যাট।
তবে এসব স্থাপনার প্রকৃত মালিকানা, ক্রয় বা নির্মাণে ব্যবহৃত অর্থের উৎস এবং মাদক উদ্ধারের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে এগুলোর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে যাচাইকৃত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সম্পদের মালিকানা, দলিলপত্র, ক্রয়মূল্য, নির্মাণব্যয় এবং অর্থের উৎস যাচাইয়ের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করা সম্ভব। তদন্তে প্রমাণ ছাড়া এসব সম্পদকে মাদক ব্যবসার অর্থে অর্জিত বলে দাবি করা যায় না।
অভিযানে ‘PRESS’ ও ‘ক্রাইম তালাশ’ লেখা মাইক্রোফোন এবং দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
এসব সরঞ্জাম কার মালিকানাধীন ছিল, কী কাজে ব্যবহার করা হতো এবং উদ্ধার হওয়া মাদকের সঙ্গে এগুলোর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তবে শুধু প্রেস লেখা মাইক্রোফোন উদ্ধারের ভিত্তিতে কোনো সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমকে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ নেই।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। ৯ অক্টোবর মাগুরা সদর থানায় দায়ের করা মামলাটির নম্বর ২৪।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা, মাদকের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ফ্ল্যাটটির মালিকানা ও মালিকপক্ষের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মাদকের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের অগ্রগতি এবং অভিযুক্ত ও আলোচনায় আসা ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।