কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত ছাত্রীর ব্যবহৃত একটি আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার বিবরণী সূত্রে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে নিহতের বাবা মরদেহটি শনাক্ত করেন।
নিহত জান্নাতুল তাজমিনের স্থায়ী বাড়ি যশোর জেলায়। তাঁর বাবা চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করতেন। জান্নাতুল নগরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এ ঘটনায় লালমাই থানায় হত্যা মামলা দায়েরের পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে জান্নাতুল পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় ফেরার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে। ভাড়া ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
পথে জান্নাতুল চালককে ১০০ টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে দিতে বলে। এরপর চালক সুমন শর্টকাট রাস্তা দিয়ে যাওয়ার কথা বলে নির্ধারিত পথ পরিবর্তন করেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরে তিনি নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে ইউটার্ন নিয়ে চাঁদপুরগামী সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে একটি নির্জন স্থানে যান।
পুলিশের দাবি, নির্জন স্থানে পৌঁছানোর পর অটোরিকশা থামানো হলে জান্নাতুল জায়গাটি সম্পর্কে জানতে চায়। চালক তাকে জানায়, সেটি রেসকোর্স নয়।
তখন আতঙ্কিত হয়ে সে অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় চালক তাকে বাধা দেন এবং যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জান্নাতুল চিৎকার শুরু করলে চালক তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরে। একপর্যায়ে সে দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে তাকে ধানক্ষেতে ফেলে মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানিয়েছেন বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর জান্নাতুলের হ্যান্ডব্যাগ থেকে আইফোনটি নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে যান সুমন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে অটোরিকশাটি রেখে কাচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরে গোসল করেন বলে তদন্তে জানা গেছে।
এরপর অন্য একটি ভাড়ায় চালিত সিএনজিতে করে বাখরাবাদ এলাকায় গিয়ে পুকুরপাড়ের একটি জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে তিনি চট্টগ্রামে চলে যান বলে পুলিশের দাবি।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও তদন্তের ভিত্তিতে গত ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী বাখরাবাদ এলাকার পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে জান্নাতুলের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন নিহত স্কুলছাত্রীর স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।