জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুলের কণ্ঠ ও পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা অর্থ আদায় এবং তদবির-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি প্রতারণার ঘটনায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র হুইপের নাম, পরিচয় ও কণ্ঠস্বর নকল করে এ ধরনের অপকর্ম চালিয়ে আসছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযুক্তদের নাম ও ব্যবহৃত কৌশল
প্রাপ্ত অভিযোগে বোরহানউদ্দিন সেতু, শেখ সাদী, হোসেন ও সুমন হাওলাদারের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতারক চক্রের সমন্বয়ক হিসেবে মূলত সেতু ও সাদী ভূমিকা পালন করতেন। তবে তাঁদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, হুইপের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও যোগাযোগব্যবস্থার একটি অংশ তাঁর ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকার সুযোগে চক্রটি এমন জালিয়াতি ও প্রতারণার সুযোগ নিয়েছে।
পুরোনো ঘটনাতেও একই চক্র
অভিযোগকারী সূত্রের ভাষ্যমতে, ২০২৩ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় হুইপের কণ্ঠ নকল করে আলাউদ্দিন তালুকদার ও আলমগীর তালুকদারের কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা সরাসরি হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান। ওই ঘটনায় সুমন হাওলাদারের নাম আলোচনায় এলেও কোনো আইনি মামলা, তদন্ত বা আদালতের আনুষ্ঠানিক নথি রয়েছে কি না—তা স্বতন্ত্রভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
খুলনা ছাত্রদলের সাবেক নেতার সন্দেহ ও সত্য উন্মোচন
সাম্প্রতিক সময়ে খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শরিফুল ইসলাম বাবুর সঙ্গেও একইভাবে হুইপের কণ্ঠ নকল করে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে প্রতারণার এই চক্রের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এ ঘটনায় বিস্তারিত কথোপকথনের রেকর্ড এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাড়ে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
সর্বশেষ চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায় হুইপের নাম ও কণ্ঠ নকল করে এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অর্থ প্রদানের পর ভুক্তভোগী বিষয়টি নিশ্চিত হতে সরাসরি হুইপের সঙ্গে কথা বললে প্রতারণার পুরো বিষয়টি উন্মোচিত হয়।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তথ্যানুযায়ী, দাবিকৃত অর্থের সঠিক পরিমাণ, লেনদেনের ধরন এবং জড়িতদের মূল নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করতে ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS)-এর রেকর্ড, কল ডিটেইলস হিস্ট্রি (CDR) ও ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা জরুরি।
হাজার কোটি টাকার অভিযোগের দাবি
অভিযোগকারী পক্ষের কোনো কোনো সূত্রের দাবি, করোনা মহামারির সময় থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় ধরে একই কৌশল ব্যবহার করে এই চক্রটি হাজার কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছে। তবে এ ধরনের বড় অঙ্কের দাবির সপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো দাপ্তরিক তথ্য বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ পায়নি। ফলে তদন্ত ছাড়া এটি কেবল প্রাথমিক অভিযোগ হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।
সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
মাননীয় হুইপের মতো দায়িত্বশীল ব্যক্তির পরিচয় ও কণ্ঠ ব্যবহার করে এ ধরনের জালিয়াতির পেছনে প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত, তা বের করতে একটি নিরপেক্ষ ও কঠোর তদন্তের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ফোন নম্বরগুলোর কল রেকর্ড, ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন অনুসন্ধানের মাধ্যমে সত্য উন্মোচিত হতে পারে।
এ বিষয়ে হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এবং অভিযোগে নাম আসা বোরহানউদ্দিন সেতু, শেখ সাদী, হোসেন ও সুমন হাওলাদারের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে। তথ্য, দাপ্তরিক নথি ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য যাচাই করে সত্য তুলে ধরাই এই অনুসন্ধানের মূল উদ্দেশ্য।