ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন গুচ্ছগ্রামে প্রায় ২০০ পরিবারের বসবাস। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে নানা নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত হয়ে প্রায় ১ হাজার ১০০ মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা সমাধানে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
কবি জসীমউদ্দীনের ‘আসমানী’ কবিতায় অসহায় মানুষের জীবনযাত্রার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, বাস্তবেও যেন সেই চিত্রের প্রতিফলন ঘটেছে গুচ্ছগ্রামটির বাসিন্দাদের জীবনযাপনে। সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করলেও গুচ্ছগ্রামটিতে পর্যাপ্ত রাস্তাঘাট, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ও অন্যান্য মৌলিক নাগরিক সুবিধার ঘাটতি রয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০০ সালে তৎকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে গুচ্ছগ্রামটি নির্মাণ করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর প্রায় ২৭ বছর পার হলেও এলাকাটির অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।
গুচ্ছগ্রামে যাতায়াতের জন্য ভালো রাস্তা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে নোংরা ও দূষিত পানির মধ্যে বসবাস করতে হয় স্থানীয়দের। দীর্ঘদিনের এমন পরিবেশে শিশু ও বয়স্কদের নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
এলাকায় সুপেয় পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। গুচ্ছগ্রামের একমাত্র পুকুরে গোসলের জন্য পাকা ঘাট না থাকায় বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই অনেক ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ে। অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি সরু পথ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় মাটি সরে যাওয়ায় কয়েকটি ঘর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ঝড়ো হাওয়ার সময় ঘরের ছাউনি উড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে থাকতে হয় অনেক পরিবারকে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, অতীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময়ে উন্নয়নের আশ্বাস দিলেও দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এছাড়া সরকারি বরাদ্দে নির্মিত ঘরগুলোর ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স বা বিভিন্ন ফি আদায়ের অভিযোগও করেছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি নিয়মে হোল্ডিং স্মার্ট কার্ডের ফি ২০০ টাকা উল্লেখ থাকলেও মাঠপর্যায়ে কোনো কোনো ঘর থেকে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।
গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা নানা সমস্যার মধ্যে বসবাস করছেন। নিরাপদ বাসস্থান, পাকা ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও চলাচলের উপযোগী রাস্তাঘাট তাদের মৌলিক প্রয়োজন। এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গুচ্ছগ্রামের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।