খুলনার দাকোপ উপজেলার চালনা পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের চালনা থেকে পোদ্দারগঞ্জগামী গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি দেখা যায়, নদীর পাড় ঘেঁষে নির্মিত কংক্রিটের তীররক্ষা ব্লক/ওয়ালের একাধিক স্থান ভেঙে ও হেলে নদীর দিকে পড়ে গেছে। কোথাও কোথাও ওয়ালের নিচের মাটি সম্পূর্ণ সরে গিয়ে শূন্য হয়ে আছে। নদীর পানি সরাসরি পাড়ে আঘাত করছে।
এতে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা, এই সড়কটি শুধু একটি রাস্তা নয়, দাকোপের হাজার হাজার মানুষের কৃষিপণ্য পরিবহন, হাসপাতালে যাতায়াত, স্কুল-কলেজ ও বাজারঘাটের একমাত্র ভরসা।
পোদ্দারগঞ্জে ভাঙন নতুন নয়
স্থানীয়দের অভিযোগ, পোদ্দারগঞ্জে নদীভাঙন দীর্ঘদিনের সমস্যা। ২০২৩ সালেই জাতীয় গণমাধ্যমে খবর এসেছিল চুনকুড়ি নদীতে পোদ্দারগঞ্জ বাজার ও শতাধিক বিঘা জমি বিলীন, ৫০টির বেশি বসতভিটা ও দোকান ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৩৩ নম্বর পোল্ডারের ওয়াপদা সড়ক নদীর খুব কাছে চলে আসার কথা। ফেরিঘাটের সড়ক জোয়ারে ডুবে যাওয়ার ঘটনাও তখন ঘটেছিল।
সরকারি নথিতেও পোল্ডার-৩৩ (দাকোপ ও বাজুয়া সহ ৫টি ইউনিয়ন) এলাকাটি ভদ্রা, চুনকুড়ি, পশুর ও ঢাংমারী নদীবেষ্টিত এবং নদীভাঙন, ঢেউয়ের আঘাত ও জলোচ্ছ্বাসের চরম ঝুঁকিতে থাকার কথা উল্লেখ আছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিকল্পনায় ব্যাংক রিভেটমেন্ট ও স্লোপ প্রটেকশনের কথা বলা হলেও মাঠে তার কার্যকর বাস্তবায়ন দেখছেন না এলাকাবাসী।
শুধু মাটি ফেললে হবে না, চাই স্থায়ী সমাধান
সরেজমিনে দেখা যায়,নদীর তীরের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় ওপরের কংক্রিটের কাঠামো ঝুলে আছে। এ অবস্থায় শুধু ইট-বালু-মাটি ফেলে রাস্তা মেরামত করলে পরের জোয়ারেই আবার ধস নামবে।
স্থানীয়দের ৩ দফা দাবি:
১. পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডি দ্রুত সরেজমিনে এসে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের দৈর্ঘ্য, সড়ক থেকে নদীর দূরত্ব ও স্রোতের গতিপথ পরিমাপ করুক।
২. কারিগরি সমীক্ষার ভিত্তিতে শক্তিশালী ব্লক ডাম্পিং ও টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।
৩. চালনা-পোদ্দারগঞ্জ সড়কের ভিত্তি সুরক্ষায় জরুরি অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, “আজ যে তীররক্ষা দেয়াল ভাঙছে, কাল ব্যবস্থা না নিলে সড়কের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যাবে না।”