“বিগত ১৭ বছরের অনাচার ও অবহেলায় দেশের চলচ্চিত্রশিল্প আজ ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে,” বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে রাঙামাটি শহরের ট্রাইব্যাল আদাম বটতলা এলাকায় আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরবর্তীতে বনরূপা এলাকার মুজাদ্দেদ-ই আলফেসানী একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “তথ্য ও সম্প্রচার খাত নিয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। রাঙামাটিতে নির্মিত হতে যাওয়া এই তথ্য কমপ্লেক্সটি শুধুমাত্র একটি ভবন নয়, এর পেছনে বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে। ধ্বংসপ্রায় চলচ্চিত্রশিল্পকে চাঙ্গা করতে এবং স্থানীয় সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করতে এখানে সুচিন্তিতভাবে ৬০ আসনবিশিষ্ট একটি আধুনিক সিনেপ্লেক্সের আয়োজন রাখা হয়েছে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচারের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের অপব্যবহার করে চরিত্রহননসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এই কমপ্লেক্সে ডেডিকেটেড ‘ফ্যাক্টচেকিং ডিপার্টমেন্ট’ থাকবে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সামাজিক অবক্ষয় ও গুজবের হাত থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”
পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মীর হেলাল বলেন, “রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিষয়ে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মৌলিক প্রয়োজনগুলো অনুভব করে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে মাঠপর্যায়ে সরাসরি কাজ করা হচ্ছে।”
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. শাহ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম আব্দুর রহমান, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইমরানুল হক ভূঁইয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান।
প্রকল্প সূত্র জানায়, সারাদেশে প্রথম পর্যায়ে ২৬টি জেলায় আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মিত হচ্ছে। ১৩ কোটি ৮৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য রাঙামাটির এই ৫ তলা কমপ্লেক্সটির মোট আয়তন হবে ১৪ হাজার ৬২০ বর্গফুট। ২ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পে অফিসিয়াল সুবিধার পাশাপাশি ডিজিটাল ল্যাব, ডিজিটাল আর্কাইভ, ফ্যাক্টচেকিং ডিপার্টমেন্ট ও মাল্টিপারপাস সিনেপ্লেক্সের সুবিধা থাকবে।