২০ সেপ্টম্বর আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় এই বিষয় উঠে আসে।সুশীলতা দিয়ে বাংলাদেশে অধিকার আদায় হয় না – এই কঠিন সত্যটা যে তরুণটি হৃদয়ে ধারণ করেছে, তার নাম সালাহউদ্দিন আম্মার। বড়ভাই সালাহউদ্দিন আম্মার আমাদের আম্মার, রাজশাহীর আম্মার, বাংলাদেশের আম্মার।
রগচটা এই ছেলেটা সবসময় শিক্ষার্থীদের অধিকারের প্রশ্নে সোচ্চার। অধিকার আদায়ের প্রতিবাদের সংস্কৃতি কোথায়, কীভাবে প্রয়োগ করতে হয় তা তিনি ভালোভাবেই জানেন। পুরো বাংলাদেশ তার বিপক্ষে গেলেও ইতিবাচক পদক্ষেপে তার পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন তার সহযোদ্ধারা।
সম্প্রতি রাজশাহী অঞ্চলের বৈরী হাওয়া পেরিয়ে ঘোরা হয়েছে জনপদের মেঠো পথ, শহরের ব্যস্ত রাস্তা ও প্রকৃতি। সেখানে রাজনৈতিক সমীকরণের পাশাপাশি দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের প্রতি তার নিখাদ ভালোবাসা। ক্লান্তিতে চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে, তবুও শিক্ষার্থীদের জন্য দিন-রাত একাকার করে কাজ করে চলেছেন আম্মার।
৩০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে যাওয়া অতিথিদের তিনি আপ্যায়নে আপ্লুত করেছেন। ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী স্থানসমূহ। এমনকি রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৫১ কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে ট্রাই করিয়েছেন রাজশাহীর বিখ্যাত কালাভুনা। অঞ্চলের প্রতি নিছক টান না থাকলে এমন আন্তরিকতা সম্ভব নয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, “আমরা আম্মার ভাইয়ের মধ্যে একটা বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা দেখতে পাই। আমরা নিজেরা অনুপ্রাণিত হই।”
এদিকে, কেন্দ্রীয় পলিটিক্সের বাইরে নিজ অঞ্চল কয়রা-পাইকগাছা নিয়েও ভাবনা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এই অঞ্চলের এমপির যে জনবান্ধব ভূমিকা রাখার কথা ছিল, গত ৭ মাস ৯ দিনে তা দৃশ্যমান হয়নি বলে স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন। জনগণের প্রত্যাশা ছিল, তিনি জনগণের বন্ধু হবেন।
কয়রা-পাইকগাছার অপার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন আম্মার। তার ভাষায় – এই অঞ্চলের চিকিৎসাখাত, সুপেয় পানি, জলবায়ু সহনশীলতা নিয়ে কাজ করার বিশাল সুযোগ আছে। এই অঞ্চলকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। এখানকার প্রাকৃতিক চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষকে কৃত্রিম ও আধুনিক পদ্ধতিতে বিশ্ববাজারে তুলে ধরে এ জনপদের সুনাম বৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি দেওয়া সম্ভব।
আগামী দিনে সেই কর্মপরিকল্পনা নিয়েই আম্মার ভাইকে সাথে নিয়ে এ অঞ্চলকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তরুণরা।