ভাত চুরির অপবাদে নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. আজমল হোসেনকে নির্যাতন ও হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে খুলনা। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নগরীর সোনাডাঙ্গা মোড়ে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে সকাল ১১টায় নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা মিছিল নিয়ে সোনাডাঙ্গা মোড়ে গিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
নিহত আজমল হোসেন (২২) নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামে।
গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের বিপরীতে ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি পাঁচতলা মেসে আজমলকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। মেসে মিল না দিয়ে অন্যের ভাত খাওয়াকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, আজমলকে মেসের চারতলার ছাদে নিয়ে মারধর করা হয় এবং তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। রাত দেড়টার দিকে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বাবা কুতুব উদ্দিনের অভিযোগ, মারধরের সময় ফোন করে তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় শনিবার রাতে নিহতের বাবা বাদী হয়ে হরিণটানা থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় মামলা করেন। মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোনাডাঙ্গা মোড়ে শিক্ষার্থীদের ব্লকেডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
প্রশাসকের আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, আজমল হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।